ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশ : 20 Jul 2026
ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার ২০ জুলাই ২০২৬ বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের পর ডাউনিং স্ট্রিটে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রবেশ করলেন ৫৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ। 


কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর দ্রুত রাজনৈতিক পালাবদলে ক্ষমতায় এলেন বার্নহ্যাম। ১৭ জুলাই বিশেষ সম্মেলনে তিনি লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পান। ৪০৩ জন লেবার এমপির মধ্যে ৩৪৯ জনের সমর্থন পেয়ে তিনি একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নেতৃত্বের দৌড়ে জয়ী হন। এর আগে জুনে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রায় এক দশক পর তিনি আবার পার্লামেন্টে ফেরেন, যা দলীয় নিয়ম অনুযায়ী নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার পথ খুলে দেয়। 


রাজা চার্লসের সঙ্গে প্রায় ৩৫ মিনিটের সাক্ষাৎ শেষে বাকিংহাম প্যালেস এক বিবৃতিতে জানায়, “মহামহিম রাইট অনারেবল অ্যান্ড্রু বার্নহ্যাম এমপিকে নতুন প্রশাসন গঠনের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি রাজার প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও ফার্স্ট লর্ড অব দ্য ট্রেজারি হিসেবে নিয়োগে ‘কিসড হ্যান্ডস’ সম্পন্ন করেছেন”। বার্নহ্যাম হলেন রাজা চার্লসের সিংহাসনে আরোহণের পর চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী এবং গত এক দশকে ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। 


দায়িত্ব নেওয়ার পর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, “গত এক দশকে যা করা হয়েছে তা কাজ করেনি। আমি ভিন্নভাবে কাজ করার চেষ্টা করব”। তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য। 


বার্নহ্যামের সামনে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে মন্থর অর্থনীতি, উচ্চ সরকারি ঋণ, মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব। ১০ বছর মেয়াদি ব্রিটিশ বন্ডের সুদ মে মাসে ১৮ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন নতুন অর্থমন্ত্রী কে হবেন তার দিকে। 


গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যাম ২০১৭ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারে ছিলেন। তিনি ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণকে তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে রেখেছেন। বার্নহ্যাম বলেছেন, ব্রিটেনকে বিশ্বের অন্যতম কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্র থেকে বের করে এনে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে চান তিনি। 


আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বার্নহ্যাম ইসরায়েল-গাজার যুদ্ধে লেবার পার্টির প্রাথমিক অবস্থানের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধসহ আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। 


বার্নহ্যামের নেতৃত্বে ব্রিটেনের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে টানা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর তিনি ‘আশা ও ঐক্যের বার্তা’ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে তার দপ্তর। 


সম্পর্কিত খবর

;