রিয়াদে হুথির ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, কিং খালিদ বিমানবন্দরের কাছে আরামকোর ডিপোতে আগুন

প্রকাশ : 20 Sep 2026
রিয়াদে হুথির ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, কিং খালিদ বিমানবন্দরের কাছে আরামকোর ডিপোতে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। হামলার পর রিয়াদের মূল বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে এবং ইয়ানবু বন্দরে আরামকোর স্থাপনায় আগুন লাগে। ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন রিয়াদের "সংবেদনশীল" স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে, যার ফলে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি ডিপোতে বড় আগুন লাগে। শনিবার ভোররাতে হামলার সময় রিয়াদে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। হুথিরা জানায় তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করেছে। 


সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শনিবার ভোরে হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাধা দিয়ে ধ্বংস করে দেয়। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, বিশা, তায়েফ, ফারাসান এবং ইয়ানবুতে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে। 


প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদ সংস্থা এএফপির ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি ডিপোতে আরামকোর লোগো লাগানো একটি ফুয়েল ট্যাংকে আগুন জ্বলছে এবং দমকল বাহিনী তা নেভানোর চেষ্টা করছে। ফুয়েল ট্যাংকে আরামকোর লোগো থাকা একটি স্থাপনায় আগুন লাগে এবং আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, কিং খালিদ বিমানবন্দরে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ বিঘ্ন সূচক জারি করা হয়। 


হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আল-মাসিরাহ টিভিতে প্রচারিত বিবৃতিতে বলেন, অভিযানে "বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন" ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রথম অভিযানে রিয়াদের সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু এবং দ্বিতীয় অভিযানে ইয়ানবুতে সৌদি তেল জায়ান্ট আরামকোর স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। হুথিদের দাবি, দুটি অভিযানই সফল হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তুতে বড় আগুন লেগেছে। 


সৌদি সিভিল ডিফেন্স শনিবার রাতে রিয়াদ ও রাজধানীর পূর্বে আল-খারজ শহরে সম্ভাব্য বিমান হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা পাঠায়। পরে জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বাইশ, তায়েফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে হামলা ঠেকানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। 


এই হামলার পেছনে কারণ হিসেবে হুথিরা বলছে, সৌদি আরব সানায় "অপরাধমূলক" হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, সৌদি এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয় এবং মারিবে সৌদির একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


ঘটনার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে বলেছে, সংঘাত দ্রুত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জর্ডান ও বাহরাইন হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং রিয়াদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। 


বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাশাদ আল-আলিমি সরকারকে সমর্থন দেয় সৌদি আরব, আর হুথিরা ইরানের মদতপুষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে সৌদি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। রিয়াদে সরাসরি হামলা এই সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকরা।


সম্পর্কিত খবর

;