রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন

প্রকাশ : 09 Sep 2026
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন

রাজশাহী অফিস: পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) পাওনিয়ার বেজে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।


যাচাইকৃত তথ্যে জানা গেছে, গত রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বায়েকের পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 


অগ্নিকাণ্ডের পর পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার প্রায় ৪২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্তও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমেও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে যে ৪২ ঘণ্টাতেও স্বাভাবিক হয়নি ইন্টারনেটসহ কম্পিউটারের কার্যক্রম। 


অগ্নিকাণ্ডের পর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব স্থাপনায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানি না থাকায় প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এবং ইডি স্যার প্রকল্পে ছুটে যান। ফায়ার সার্ভিসের ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট আপ্রাণ চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের অভ্যন্তরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আগুনে বায়েকের কার্যালয়ের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।


এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সার্ভার রুমে আগুন লাগায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথিপত্র ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পারমাণবিক চুল্লি বা মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।


সম্পর্কিত খবর

;