শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

প্রকাশ : 23 Jul 2026
শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন—এমন গুঞ্জন ফের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের বরাতে একটি পোস্টে দাবি করা হয়, ‘স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন’ বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। 


এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝপথে পদত্যাগ করতে আগ্রহী। তিনি বলেছিলেন, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তিনি ‘অপমানিত বোধ’ করছেন এবং ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা উচিত’। রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তখন একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদমাধ্যমে ‘পদত্যাগের পরিকল্পনা’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। 


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং ওই বছরই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন এবং সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। ৬ আগস্ট ২০২৪ রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। 


এদিকে, ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্পষ্ট করে জানান, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন’ এমন খবর মিথ্যা ও গুজব। ওই সময় প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ভিডিও এডিট করে রাষ্ট্রপতির নামে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা ফ্যাক্টওয়াচ নিশ্চিত করে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি নিজেও এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের কোনো দালিলিক প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। 


সম্পর্কিত খবর

;