কম্বোডিয়ায় বরিশালের দুই যুবক জিম্মি, প্রতারণায় বাধ্য করার অভিযোগ

প্রকাশ : 09 Jun 2026
কম্বোডিয়ায় বরিশালের দুই যুবক জিম্মি, প্রতারণায় বাধ্য করার অভিযোগ

রাহাদ সুমন,বরিশাল অফিস: আগৈলঝাড়ার দুই যুবককে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে প্রতারণা ও অবৈধ কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আগৈলঝাড়ার গৈলা এলাকার কামাল হোসেন বেপারী ও তার ছেলে সিয়াম হোসেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।


ভুক্তভোগী আরিফ হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, কামাল হোসেন বেপারী তাকে বৈধ কোম্পানিতে কম্পিউটারভিত্তিক চাকরি, মাসিক দেড় লাখ টাকা বেতন ও এক বছরের ওয়ার্ক পারমিটের আশ্বাস দেন। এসব প্রতিশ্রুতিতে চার দফায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছে দেখেন, অফিসিয়াল চাকরির পরিবর্তে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এক বছরের ভিসার কথা বললেও মাত্র তিন মাসের ভিসা দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট কামাল নিজের কাছে রেখেছেন। চার মাসেও বেতন না পেয়ে বৈধ কাগজপত্র চাইলে কামাল ও সিয়াম তাকে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন করেছেন।


একই অভিযোগ করেন পূর্ব সুজনকাঠীর সৌরভ মোল্লা। তিনি জানান, ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে মাসিক এক লাখ টাকা বেতনের অফিসিয়াল চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়। পাঁচ মাসেও বেতন মেলেনি, উল্টো পরিবারকে কয়েক দফায় খরচের টাকা পাঠাতে হয়েছে।


আরিফের দাবি, কামাল ও সিয়ামের নেতৃত্বে কম্বোডিয়ায় একটি প্রতারক চক্র সাইবার অপরাধ চালাচ্ছে। ব্যাংকের নামে ঋণের প্রলোভন, বিকাশ-নগদ প্রতারণা, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ভুয়া পরিচয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতারণা ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। আপত্তি জানালে বা পাওনা চাইলে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।


আরিফের মা বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর আরিফই সংসারের একমাত্র ভরসা। জমিজমা ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে দালালের টাকা দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন আমরা সর্বস্বান্ত। ছেলেকে নিরাপদে ফেরানো ও দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের হস্তক্ষেপ চাই।


সৌরভের বাবা জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, বৈধ কাজের কথা বলে ছেলেকে অবৈধ কাজে বাধ্য করা হচ্ছে। আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি।


ভুক্তভোগী পরিবার আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিখন বনিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ইউএনও বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হবে এবং তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্থানীয়দের মতে, অভিযোগ প্রমাণ হলে এটি শুধু প্রতারণা নয়, বিদেশের মাটিতে সংঘবদ্ধ সাইবার অপরাধ ও মানবপাচার-সদৃশ কার্যক্রমের ভয়াবহ চিত্র। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বৈধ প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে।


অভিযোগের বিষয়ে সিয়াম হোসেন বলেন, আরিফকে তিনি এবং সৌরভকে তার বাবা বিদেশে পাঠিয়েছেন। দুজনকেই কনস্ট্রাকশন খাতে কাজের ভিসা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা নিজেরাই অনলাইন প্রতারণায় জড়িয়েছেন। পাসপোর্ট আটকে রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও বেতন না দেওয়ার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।


সম্পর্কিত খবর

;