নারী-পুরুষ উভয় বিভাগে ফুটসাল লিগ যুগে বাংলাদেশ

প্রকাশ : 15 May 2026
নারী-পুরুষ উভয় বিভাগে ফুটসাল লিগ যুগে বাংলাদেশ

রফিকুল ইসলাম সুজন: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে ঘরোয়া ফুটসাল লিগ শুরু হয়েছে। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই লিগে দুই বিভাগেই অংশ নিচ্ছে ১১টি করে দল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত ‘২০২৫-২৬ মেনস অ্যান্ড উইমেন্স ফুটসাল লিগ বাংলাদেশ’ চলবে ১৪ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত। প্রথম পর্বের পর ২৪ মে থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত লিগ বন্ধ থাকবে।


উদ্বোধনী দিনে বিকেল ৫টায় নারী বিভাগে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিকেএসপি। ছয় গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ৩-৩ ড্র হয়। দুইবার এগিয়েও জয় পায়নি বিকেএসপি। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে রুনার গোলে এগিয়ে যায় তারা। তবে পরের মিনিটেই নওশন জাহান সমতা ফেরান। বিকেএসপির গোলরক্ষক জ্যোতি খাতুন একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে নজর কাড়েন। সন্ধ্যা ৭টায় পুরুষ বিভাগের প্রথম ম্যাচেও একই দুই দল মুখোমুখি হয়। রাত ৯টায় দিনের শেষ ম্যাচে জেনন এফসি ৩-২ গোলে ঢাকা অ্যাথলেটিক ক্লাবকে হারায়। জয়ী দলের রিয়াজ দুটি এবং সজল একটি গোল করেন।


লিগে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ আনসার, বিকেএসপি, চাঁদপুর জেলা, ঢাকা অ্যাথলেটিক, ফকির এফসি, আইএম টেন, স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকস, টেকভিল ফুটসাল ক্লাব, ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমি ও জেনন এফসি। সব ম্যাচ টি স্পোর্টসে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছে।


নারী বিভাগে তারকাবহুল দল গড়েছে আইএম টেন এফসি। সাফ ফুটসালজয়ী ৮ জন– সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী, মাসুরা পারভীন, স্বপ্না আক্তার, লিপি আক্তার, নিলুফা ইয়াসমিন, মার্জিয়া আক্তার ও মাতসুশিমা সুমাইয়া খেলছেন এই দলে। ওয়ারিয়র স্পোর্টসের জার্সিতে আছেন সুমি খাতুন ও ইতি রানী। সেনাবাহিনীতে খেলছেন মেহেনুর আক্তার ও নওশন জাহান। টেকভিল ফুটসাল ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন সানজিদা আক্তার ও ফায়েদ আজিম। ছেলেদের বিভাগে আইএম টেনের হয়ে মাঠ মাতাবেন কাজী ইব্রাহিম ও মঈদ আহমেদ। ফকির এফসির হয়ে খেলছেন জাতীয় দলের ফয়সাল হোসেন।


দেশে ফুটসালের টুর্নামেন্ট আগে হলেও ঘরোয়া লিগ ছিল না কখনো। ২০১৮ সালে মেয়েদের এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে বাংলাদেশের ফুটসালে পথচলা শুরু হয়। গত জানুয়ারিতে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ নারী ফুটসালে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ফাইনালে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে সাবিনার দল। একই সময়ে ছেলেদের বিভাগে সাত দলের মধ্যে পঞ্চম হয় বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এশিয়ান কাপ বাছাই দিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেয় জাতীয় পুরুষ ফুটসাল দল। মালয়েশিয়ায় ইরানের কাছে ০-১২, মালয়েশিয়ার কাছে ১-৮ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ২-৮ গোলে হারে দলটি।


বাফুফের ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান জানিয়েছেন, ফুটসালের জন্য নিয়মিত লিগ চালু করে শক্ত ভিত গড়তে চায় বাফুফে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে থাইল্যান্ডে সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবে বাংলাদেশের নারী ও পুরুষ দল। দীর্ঘ ৭ বছর পর সাফ নারী ফুটসালে ফিরছে বাংলাদেশ। ফুটসাল লিগ দেশের ক্রীড়ায় নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ফুটসাল খেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস


ফুটসালের জন্ম ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মন্টেভিডিওতে। বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল ও ওয়াটার পোলোর নিয়ম মিশিয়ে ইয়াং মেনস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষক হুয়ান কার্লোস সেরিয়ানি ইনডোরে খেলার জন্য ৫ জনের এই ফুটবল সংস্করণ চালু করেন। ‘ফুটসাল’ নামটি এসেছে স্প্যানিশ ‘ফুটবল সালা’ বা পর্তুগিজ ‘ফুটবল দে সালাও’ থেকে, যার অর্থ ‘ইনডোর ফুটবল’।


দ্রুতই খেলাটি দক্ষিণ আমেরিকায় জনপ্রিয় হয়। ১৯৬৫ সালে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটসাল কনফেডারেশন গঠিত হয়। ১৯৭১ সালে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক ফুটসাল ফেডারেশন (FIFUSA)। ১৯৮২ সালে ব্রাজিলে প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ হয়, যেখানে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক ব্রাজিল।


১৯৮৯ সালে ফিফা ফুটসালকে নিজেদের অধীনে নেয়। ওই বছরই নেদারল্যান্ডসে ফিফার প্রথম ফুটসাল বিশ্বকাপ হয়। বর্তমানে ফিফা প্রতি চার বছর পরপর ফুটসাল বিশ্বকাপ আয়োজন করে। এশিয়ায় এএফসি ফুটসাল এশিয়ান কাপ ও দক্ষিণ এশিয়ায় সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়মিত হচ্ছে।


ফুটসাল খেলা হয় কাঠ বা কৃত্রিম ম্যাটের ৪০x২০ মিটার কোর্টে। প্রতি দলে ৫ জন করে খেলোয়াড় থাকে, খেলা হয় দুই অর্ধে ২০ মিনিট করে। বলটি সাধারণ ফুটবলের চেয়ে ছোট ও কম বাউন্স করে। দ্রুতগতি, কৌশল ও ক্লোজ কন্ট্রোলের কারণে ফুটসাল এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও ইরান ফুটসালে শীর্ষ দেশ।


সম্পর্কিত খবর

;