ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড়ধস, আটজনের মৃত্যু

প্রকাশ : 06 Jul 2026
ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে পাহাড়ধস, আটজনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম অফিস: টানা ভারী বৃষ্টিপাতে কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও সদর উপজেলায় পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারী রয়েছেন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের কারণেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং আরও ধসের শঙ্কা রয়েছে। আশ্রয়শিবিরের অনেক রোহিঙ্গা পাহাড়ের ঢালুতে বসবাস করায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। 


নিহতদের মধ্যে রামু উপজেলায় পাহাড়ধসে প্রাণ গেছে আমির হোসেন (৪০), মো. রিদওয়ান (১০) ও মো. জুনু মিয়া (৬০) এর। একই উপজেলায় জলাবদ্ধতায় ডুবে মারা গেছেন খতিজা বেগম (৩৮) এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন হালিমা বেগম (২৭)। এছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে নারকেল গাছ চাপা পড়ে মা আনোয়ারা বেগম (২৭) ও ছেলে জিসান (সাড়ে ৩ বছর) নিহত হন। কক্সবাজার শহরের গোনাপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে রাত ২টার দিকে মারা যায় তিন বছর বয়সী শিশু আফসার। 


উখিয়ার বালুখালী-৯ ক্যাম্পে পাহাড়ধসে এক নারী ও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে হুমায়ারা বেগম ও আনাসের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই পরিবারের আরও এক সদস্য নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার ডলার ত্রিপুরা। 


কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আরও দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। টানা বর্ষণে জেলার সদর, রামু, পেকুয়া ও চকরিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ায় প্রায় এক লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। 


রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দিনের বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ৩,৪০০-এর বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ১,১৮৬টি পরিবার পাহাড়ধসে, ২১৬টি পরিবার বন্যায় এবং ১,৮৪০টি পরিবার ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ১৫,৫৩৪ জন বন্যা বা অন্যান্য ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। 


প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার অনুপম সাহা বলেন, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক পাহাড়ধসে বন্ধ হয়ে গেছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। 

সম্পর্কিত খবর

;