ফরিদপুরে অস্ত্রোপচারের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু,তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশ : 20 Jul 2026
ফরিদপুরে অস্ত্রোপচারের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু,তদন্ত কমিটি গঠন

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসকের গাফিলতির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।


নিহত আয়েশা আফরিন (১৭) সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।


পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে তীব্র পেটব্যথা অনুভব করলে আয়েশাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করে রাতে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।


স্বজনদের ভাষ্য, অপারেশনের পর থেকেই আয়েশার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। রাত প্রায় ৩টার দিকে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান।


নিহতের মা আলেয়া বেগম বলেন, "মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের জন্য হাসপাতালে নিয়েছিলাম। চিকিৎসকের ভুলের কারণেই আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"


পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল আহসান সম্পন্ন করেন। ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।


এদিকে আয়েশার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, অভিযোগের সঙ্গে হাসপাতালের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।


ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্তে চিকিৎসা অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য বিভাগের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

;