‘মিঠুনদার দুষ্টুমির চোটে মরতে বসেছিলাম’, জন্মদিনে স্মৃতিচারণায় দেবশ্রী রায়

প্রকাশ : 16 Jun 2026
‘মিঠুনদার দুষ্টুমির চোটে মরতে বসেছিলাম’, জন্মদিনে স্মৃতিচারণায় দেবশ্রী রায়

ডেস্ক রিপার্ট: মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিনে টলিউডের ‘ডিস্কো ডান্সার’কে নিয়ে অকপট স্মৃতিচারণা করলেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, মিঠুনদার দুষ্টুমি একবার তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল। আবার এটাও বললেন, ‘মানুষটার তো সত্যিই বয়স বাড়ে না। উনি চিরযুবক।’ 


ঘটনাটা ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ ছবির শুটিংয়ের সময়। রামোজি ফিল্ম সিটিতে শুট চলছিল। দেবশ্রীর কথায়, ‘আচমকা মিঠুনদা কোথা থেকে একটা সাপ কিনে এনে আমার কাঁধে রেখে দিয়েছিলেন। আসল সাপ নয় ওটা। কিন্তু সেটা দেখেই আমার হৃদ্‌স্পন্দন প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড়! সারা রামোজি ফিল্ম সিটি আমার চিৎকার শুনেছে।’ তিনি আরও জানান, শুধু তিনি নন, অভিনেত্রী পদ্মিনী কোলহাপুরীর সঙ্গেও মিঠুন একই কাণ্ড করেছিলেন। পরে মিঠুন নিজেই দেবশ্রীর দিদি কৃষ্ণাকে রসিয়ে রসিয়ে বলেছিলেন, ‘তোর বোনকে যা রাগিয়েছি না!’ 


দুষ্টুমি করলেও মিঠুনদার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা পারিবারিক, জানালেন দেবশ্রী। মুম্বই থেকে কলকাতায় এলেই মিঠুন সোজা চলে আসতেন দেবশ্রীদের বাড়ি। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা হত। মিঠুনের তিন বোনের সঙ্গেও তাঁর ভাব ছিল। দু’জনে একই গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছেন, সেই অর্থে ‘গুরুভাই’। ‘শাস্ত্রী’ ছবির শুটিংয়ের সময় দেবশ্রী ইলিশ, পাবদা রেঁধে নিয়ে গিয়েছিলেন মিঠুনের জন্য। মিঠুন নিজেও দারুণ রান্না করেন, যদিও বেশিরভাগ সময় মাংস রাঁধতেন বলে দেবশ্রী চেখে দেখেননি। 


দেবশ্রী বলেন, মানুষটার ওপর রাগ দেখানো যায়, বকা যায়— সেই জায়গা আছে। ‘শাস্ত্রী’ ছবির সময় মিঠুন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তিনি দেখতে যান। ছেলে মিমো বাবার কথা শোনাতে না পারলেও দেবশ্রীর ধমকে মিঠুন হোটেলে না থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। মিমো তখন বলেছিল, ‘আমাদের কথা তো শোনে না, আপনি বলুন।’ বাবা হিসেবে মিঠুন দারুণ, ছেলেমেয়েরা তাঁকে ‘মিঠুন’ বলেই ডাকে। 


সম্প্রতি ‘শাস্ত্রী’ ছবিতে ফের জুটি বেঁধেছেন মিঠুন-দেবশ্রী। পথিকৃৎ বসু পরিচালিত এই ছবিতে জ্যোতিষী শাস্ত্রীজীর ভূমিকায় মিঠুন, আর তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে দেবশ্রী। ছবিতে বিশ্বাস বনাম বিজ্ঞানের টানাপোড়েন দেখানো হয়েছে। দেবশ্রী জানিয়েছেন, ‘মিঠুনদার সঙ্গে ছবি করা মানে একটা আলাদাই পরিবেশ তৈরি হয়। খুব হইহই করে কাজ করি আমরা। দর্শকও আমাদের জুটিটা দেখতে ভালোবাসে’। 


মিঠুন চক্রবর্তীর জন্ম ১৬ জুন, ১৯৫০। ৭০ পেরিয়েও তিনি সমান জনপ্রিয়। দেবশ্রীর কথায়, ‘আসলে মানুষটার তো সত্যিই বয়স বাড়ে না।’ 

সম্পর্কিত খবর

;