লাগবে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : 01 Aug 2026
বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের প্রবণতা কমাতে ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করেছে মার্কিন সরকার। পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরিচালনার পর পররাষ্ট্র দপ্তর এই কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫০ দেশের এই তালিকায় আছে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানও।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ৫০টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। দ্য ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই নিয়ম আগামী ৩ আগস্ট, সোমবার থেকে কার্যকর হবে। 


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই কর্মসূচিটি বি-১ এবং বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা উপযুক্ত মনে করলে সংশ্লিষ্ট অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। 


ফেডারেল রেজিস্টারের খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বছরব্যাপী পর্যালোচনায় দেখা গেছে এই কর্মসূচি ভিসা ওভারস্টে কমাতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, তাই এটিকে স্থায়ী করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্প মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ট্রেজারি বিভাগের জন্য এই কর্মসূচি পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাঠামো তৈরি করেছিল এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তে বন্ড নেওয়া ভিসা গ্রহীতাদের ওপর আইনি শর্ত নিশ্চিতে এটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। 


পাইলট কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড দাবি করতে পারতেন। চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে। 


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তালিকায় ভারত নেই। তবে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বর্তমান তালিকায় ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টি দেশই আফ্রিকার। 


এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসায় ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তখন জানিয়েছিল, ভিসা অনুমোদনের পরই কেবল বন্ড জমা দিতে হবে, আগে নয়।


মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতেই এই নীতি। তবে অভিবাসনবিষয়ক অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বৈধভাবে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করতে পারে। সমালোচকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে, যা জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতেই এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন। 


যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।


যেসব দেশের জন্য ভিসা বন্ড স্থায়ী হলো:


আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা, বাংলাদেশ, বেনিন, ভুটান, বতসোয়ানা, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কম্বোডিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, আইভরিকোস্ট, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ইথিওপিয়া, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, গ্রেনাডা, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লেসোথো, মালাবি, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মঙ্গোলিয়া, মোজাম্বিক, নামিবিয়া, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, সাও টোমে এবং প্রিন্সিপে, সেনেগাল, সিশেলস, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তিউনিসিয়া, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনিজুয়েলা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে।

সম্পর্কিত খবর

;