বাংলাদেশে আইপিভিএস চ্যাপ্টারের যাত্রা শুরু

প্রকাশ : 29 Jun 2026
বাংলাদেশে আইপিভিএস চ্যাপ্টারের যাত্রা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধ ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক প্যাপিলোমাভাইরাস সোসাইটি (আইপিভিএস) এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার রুম-৫০৭-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চ্যাপ্টারটির যাত্রা শুরু হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউ-এর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সারে মৃত্যুহার অনেক বেশি। এইচপিভি ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ভ্যাকসিনেশনের কোনো বিকল্প নেই। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এইচপিভি সমস্যা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের লিড অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা ও অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ডা. সৈয়দা নওশীন পারভীন, বিএমইউ-এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, বিএমআরসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার, আইসিডিডিআর,বি-এর এমেরিটাস বিজ্ঞানী ডা. ফিরদৌসী কাদরীসহ দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মিশন বাস্তবায়ন করা সহজ নয়, এটা বাস্তবে রূপ দিতে দৃঢ় প্রত্যয় প্রয়োজন। অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, এইচপিভি সম্পর্কিত রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, স্ক্রিনিং ও ভ্যাকসিনেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্যাথলজিস্ট, ভাইরোলজিস্ট, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।


স্বাগত বক্তব্য দেন আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সমন্বয়ক ডা. লুৎফা বেগম লিপি। তিনি বলেন, এই চ্যাপ্টারের প্রতিষ্ঠা এইচপিভি সংক্রমণ প্রতিরোধ, জরায়ুমুখ ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।


অধ্যাপক আশরাফুন্নেসা জানান, আইপিভিএস-এ বাংলাদেশের সদস্যসংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ঘানা, নাইজেরিয়া ও নেপালের পর বাংলাদেশ চ্যাপ্টার গঠনের অনুমোদন পেয়েছে। অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার আগামী এক বছরের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন এবং চ্যাপ্টারের সদস্য হওয়ার আহ্বান জানান।


বক্তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার নির্মূল কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনে এইচপিভি টিকাদান, এইচপিভি-ভিত্তিক স্ক্রিনিং, গবেষণা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টার বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলবে এবং এইচপিভি-সম্পর্কিত রোগ প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


অনুষ্ঠানের শেষে কেক কেটে ও বেলুন উড়িয়ে আইপিভিএস বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা জরায়ুমুখ ক্যান্সার নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশে এইচপিভি প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।


সম্পর্কিত খবর

;