স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। নির্বাচনী হলফনামা ও উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। অথচ তিনি দাবি করেছেন, তার বাবা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনেই বর্তমানে জীবিত আছেন।
মঙ্গলবার ১৬ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুল মুনতাকিম তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা তুলে ধরেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।’’
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখিত তার জন্মতারিখ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। হলফনামা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন তার বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। সে হিসেবে তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি।
অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধে বাবার শহীদ হওয়ার দাবি সত্য হলে, বাবার মৃত্যুর প্রায় ১০ বছর পর তার জন্ম হয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আমি অবগত না। ওনার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে পরবর্তীতে জানানো হবে।’’
এ ছাড়া আব্দুল মুনতাকিমের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে ভয়েস বাংলা ও আজকের পত্রিকার বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে এমপি মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম এখনও জীবিত। সৈয়দপুরের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিক উল ইসলাম এমপির মন্তব্যকে “স্লিপ অব দ্য টাং” বা মুখ ফসকে বলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন।
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে একজন সংসদ সদস্যের জন্মসালের সঙ্গে বাবার শহীদ হওয়ার সময়ের অসামঞ্জস্য নিয়ে এত ব্যাপক আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরসের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্কও চলছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে বিতর্ক রয়েছে। দলটির শীর্ষ অনেক নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের একজন এমপির পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্র ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ।আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাসদ কেন্দ্রীয় ...
বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, জনগণের জন্য রাজনীতি করে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নরসিংদীর পলাশ ...
স্টাফ রিপোর্টার: চলমান গ্যাসের সংকট আগামী সাত দিনের মধ্যে কেটে যাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠ ...
সব মন্তব্য
No Comments