সংকটে শিপব্রেকিং শিল্প

ইরান ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: চট্টগ্রামে আটকে গেল ‘মেমেই’ ট্যাংকার,

প্রকাশ : 04 Jun 2026
ইরান ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: চট্টগ্রামে আটকে গেল ‘মেমেই’ ট্যাংকার,

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা (শিপব্রেকিং) শিল্প। ভাঙার জন্য আমদানি করা ‘মেমেই’ নামের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর ফলে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে আছে এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে সৈকতে বা ইয়ার্ডে ভেড়াতে পারছে না।


যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) গত বৃহস্পতিবার ইরানের পেট্রোলিয়াম ও এলপিজি রপ্তানিতে সহায়তার অভিযোগে ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘মেমেই’ জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করা অবস্থায় আছে। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের দাবি, জাহাজটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করেছে।


সমুদ্রে চলাচলকারী সব জাহাজের ভৌগোলিক অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে ভেসেল ফাইন্ডার নামের একটি ওয়েবসাইট। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাতটা পর্যন্ত জাহাজটির অবস্থান চট্টগ্রাম উপকূলে দেখা যাচ্ছিল। জাহাজটি ভাঙার জন্য চট্টগ্রাম শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে আনার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে জাহাজটি ইয়ার্ডে আনার জন্য অনাপত্তিপত্র পেতে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।


ইউনাইটেড এগেইনস্ট ইরানের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মূলত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জ্বালানি তেল পরিবহন করতে ইরান যে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজবহর ব্যবহার করে, তার একটি হচ্ছে এই জাহাজ। ২০২৪ সালে মোট ৮৪ লাখ ৮৬ হাজার ২০৭ ব্যারেল তেল পরিবহন করেছে জাহাজটি। ইরানের ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির অধীনে জাহাজটি তেল পরিবহন করত। প্রতিষ্ঠানটিও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।


বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি হলো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যের ওপর শর্তারোপ করা। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে গেলে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে হুমকির বিষয়ও আছে। এ মুহূর্তে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উচিত অনাপত্তিপত্র স্থগিত করে বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। কারণ, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেখান থেকে কী সিদ্ধান্ত আসছে, তার ওপর ভিত্তি করে এগোনো ভালো হবে।


শিপব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটির এলডিটি প্রায় ২২ হাজার টন। কয়েক কোটি ডলার দিয়ে আমদানি করা জাহাজটি এখন আটকে থাকায় প্রতিদিন বড় অঙ্কের ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদ ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জাহাজটি ভেড়াতে না পারায় ইয়ার্ডের শ্রমিকদেরও কাজ বন্ধ রয়েছে।


মার্কিন অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের ‘নগদ অর্থ প্রবাহ কমানো’ এবং ওয়াশিংটনের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ নীতির অংশ হিসেবে দেশটির তেলমন্ত্রী ও ১০টি ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।


এদিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এসব চালানের কথা উল্লেখের মাধ্যমে বাংলাদেশকেও এখন ওয়াশিংটনে সম্প্রসারিত নজরদারি ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থার আওতায় দেখা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্পর্কিত খবর

;