প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে পছন্দের শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক

প্রকাশ : 03 Jun 2026
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে পছন্দের শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক

ডেস্ক রিপোর্ট: টানা পাঁচ বছর ধরে প্রবাসী রেমিট্যান্স আয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর ব্র্যাক ব্যাংক এখন ২০২৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ব্যাংকটি রেমিট্যান্স আয়ে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।


ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত আয় দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমরা সবসময় নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য রেমিট্যান্স চ্যানেল নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে এটি ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেমিট্যান্স গ্রাহকদের কাছে সেবার দ্রুততা, নিরাপত্তা ও সহজলভ্যতার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।


এ চাহিদার প্রেক্ষিতে ব্র্যাক ব্যাংক বৈশ্বিক পার্টনারশিপ, দেশব্যাপী সেবা নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে রেমিট্যান্স ব্যাংকিংয়ে সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ব্যাংকটি মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসী করিডোরে নিজস্ব এক্সচেঞ্জ হাউস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করেছে।


বর্তমানে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি পার্টনার এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে ‘হোস্ট-টু-হোস্ট’ প্রযুক্তিতে যুক্ত হয়ে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য রেমিট্যান্স সেবা দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। দেশে ব্যাংকটির ৩১০টি শাখা ও উপশাখার পাশাপাশি রয়েছে ১ হাজার ১১৭টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট। ফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলের সুবিধাভোগীরা সহজেই রেমিট্যান্সের অর্থ তুলতে পারছেন।


প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারের জন্য ব্যাংকটি চালু করেছে প্রবাসী ভার্চুয়াল সেভিংস অ্যাকাউন্ট, প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট, তারা প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ওবিইউ সেবা। ই-কেওয়াইসি সুবিধার মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশে বসেই হিসাব খুলতে পারছেন। পাশাপাশি ‘আস্থা’ অ্যাপ ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, আমানত ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ঋণ সুবিধা ও ডিপিএস খোলার কাজ করতে পারছেন।


ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল, সিএফএ বলেন, বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, সেবা প্রদানের কাঠামো, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং গ্রাহক সম্পৃক্ততায় ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রতিফলন দেশের রেমিট্যান্স বাজারে আমাদের এই অগ্রগতি। ২০২৮ সালের মধ্যে আমরা রেমিট্যান্স বাজারে শীর্ষস্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।


অবকাঠামো ও পণ্যের বাইরেও ব্র্যাক ব্যাংক দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘উঠান বৈঠক’-এর মাধ্যমে বৈধ রেমিট্যান্স চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে কাজ করছে।


সম্পর্কিত খবর

;