সাত বছরে সড়কে প্রাণ গেছে ৭৯৬৩ শিশুর, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মোটরসাইকেল

প্রকাশ : 21 Oct 2026
সাত বছরে সড়কে প্রাণ গেছে ৭৯৬৩ শিশুর, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে মোটরসাইকেল

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের (আরএসএফ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাড়ে ছয় বছরে শিশু মৃত্যুর ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৯৫৮ শিশু নিহত হয়েছে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে ২ হাজার ৮১২ এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ২ হাজার ১৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। সংস্থাটি প্রতি মাসে একই পদ্ধতিতে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মাসিক প্রতিবেদনেও সংস্থাটি জানিয়েছিল, সেপ্টেম্বরে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৬১ জন শিশু। রোববার ৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে তারা একই উৎসের কথা উল্লেখ করে।


এর আগের তথ্যও এই ধারাবাহিক উদ্বেগকে সমর্থন করে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৭১৩ জন নিহতের মধ্যে ১১৪৩ জন ছিল শিশু। ওই বছর শিশুদের মধ্যে ৩২.১৯% বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে, ৪১.৯০% রাস্তা পারাপার বা রাস্তা ধরে হাঁটার সময় চাপা বা ধাক্কায় এবং ১৮.৫৪% মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছিল।


আরও সাম্প্রতিক চিত্রে, ২০২৫ সালে এক বছরে ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০০৮ জন শিশু সড়কে নিহত হয়েছে। দৈনিক হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৩ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু। অন্য একটি বিশ্লেষণে বলা হয়, গত বছর সড়কে নিহত ৭৭১৩ জনের মধ্যে শিশুর হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৩ শিশু।


মোটরসাইকেলের ঝুঁকি আলাদাভাবেও স্পষ্ট। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের অপর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত হয়েছেন, যার ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো, ফুটপাত ও জেব্রা ক্রসিংয়ের অভাব, দ্রুতগতির যানবাহন, শিশুদের জন্য নিরাপদ সিটবেল্ট ও শিশু-বান্ধব সিটের ব্যবস্থা না থাকা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাবই শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ। সংস্থাটি শিশুদের জন্য নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা, স্কুল জোনে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।


সম্পর্কিত খবর

;