আগস্টে ৫১৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮১, প্রাণহানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ

প্রকাশ : 07 Sep 2026
আগস্টে ৫১৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮১, প্রাণহানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার: গেল আগস্ট মাসে দেশে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৬৪ জন। নিহতদের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু রয়েছেন। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক গড় প্রাণহানি ১৫ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়েছে।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত মাসিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।


বেড়েছে দৈনিক মৃত্যুর হার


প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৪১ জন নিহত হলেও আগস্টে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে।


মোটরসাইকেলেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি


আগস্টে ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন, যা ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।


যানবাহনভিত্তিক হিসাবে বাসের যাত্রী ৩৭ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-লরি-ড্রাম ট্রাকের আরোহী ৫১ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-জিপের ১১ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২১ জন এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছেন।


আঞ্চলিক সড়কে বেশি দুর্ঘটনা


সবচেয়ে বেশি ২১৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ১৬৩টি, গ্রামীণ সড়কে ৬২টি এবং শহরের সড়কে ৭১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।


দুর্ঘটনার ধরনে ১৯৫টি ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে (৩৮%), ১২৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৬টি পথচারীকে চাপা, ৭৮টি পেছন থেকে আঘাত এবং ৮টি অন্যান্য কারণে। দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল ৭৪৯টি যানবাহন, এর মধ্যে ১৯৪টি মোটরসাইকেল, ১১২টি থ্রি-হুইলার, ১০৮টি ট্রাক এবং ১০৩টি বাস।


ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ, বগুড়া জেলায় বেশি মৃত্যু


বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঢাকা বিভাগে ১৭২টি, নিহত ১৪৪ জন। সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত। একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বগুড়ায়। রাজধানী ঢাকায় ৪৮টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়েছেন।


এছাড়া আগস্টে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৯ জন আহত এবং ৩৪টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন।


কারণ ও সুপারিশ


রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালানো, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, চালকদের অদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।


সংস্থাটি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ-বিআরটিসি-ডিটিসিএ সংস্কার, মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক, মেয়াদোত্তীর্ণ যান প্রত্যাহার, রাজধানীতে কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা চালু, দক্ষ চালক তৈরি ও তাদের বেতন-কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং সব রেলক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগের সুপারিশ করেছে।


সম্পর্কিত খবর

;