বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধ ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক কাল

প্রকাশ : 07 Sep 2026
বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধ ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক কাল

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক বৈঠকে আলোচনা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার রেলভবনে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকে (আইজিআরএম) তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।


বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র বলছে, দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস অক্টোবর থেকেই বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছিল গত বছর জানুয়ারিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে।


২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ১৬ জুলাই থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং ১৯ জুলাই থেকে তিনটি ট্রেনের চলাচলই বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভিসা জটিলতায় যাত্রীবাহী ট্রেন আর চালু হয়নি। রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, ভিসা স্বাভাবিক না হওয়ায় ট্রেন চালুর বিষয়টি এগোয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুই দেশই ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে শুরু করে।


এবারের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি নতুন প্রস্তাবও দেওয়া হবে। এর মধ্যে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব থাকছে। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে এতদিন যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথা জানাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এছাড়া রাতের বেলায় ট্রেন পরিচালনা এবং যাত্রীবাহী ট্রেনে পার্সেল বুকিং চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হবে।


যাত্রীবাহী ট্রেনের বাইরে পণ্য পরিবহন নিয়েও আলোচনা হবে। বাংলাদেশ চায় দর্শনা-গেদে, বেনাপোল-পেট্রাপোল ও রহনপুর-সিংহাবাদ রুটে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করতে। এছাড়া রুটভিত্তিক ভিসার পরিবর্তে অন্য ধরনের ভিসা ব্যবস্থা, ভারতীয় রেলের কাছে বাংলাদেশের বকেয়া অর্থ এবং ভারতীয় ঋণে চলমান রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে।


এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালুসহ অনেক বিষয়ই আলোচনায় আসবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর

;