কার্যকর আজ থেকেই

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

প্রকাশ : 24 Jul 2026
বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধকরণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ ও ১২.৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (USTR) বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক অস্থায়ী শুল্কের ১৫০ দিনের মেয়াদ আজ শেষ হচ্ছে। 


নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায়, যা আদালতে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছে প্রশাসন। এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯.৪ শতাংশ কভার করবে, তবে তেল ও গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্য এই তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। 


USTR-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী দুই স্তরের শুল্ক থাকবে। যে দেশগুলো ইতোমধ্যে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, অথবা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অথবা আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসবে। এই তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্যসহ ১৭টি অর্থনীতি রয়েছে। 


অন্যদিকে, যেসব দেশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে ওয়াশিংটন মনে করে, যেমন চীনসহ বাকি ৪৩টি দেশ, তাদের ওপর ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের কিছু পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ এবং কিছু পণ্যের ওপর ১২.৫ শতাংশ হারে শুল্ক প্রযোজ্য হবে। 


মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং আমরা কঠোরভাবে তা কার্যকর করি। আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদেরও এখন একই কাজ করার সময় হয়েছে"। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাণিজ্যে বিকৃতি— দুটোই সংশোধন করবে। 


প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন শুল্ক বিদ্যমান ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হবে না। ট্রানজিটে থাকা পণ্যের জন্য ২৮ জুলাই পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। 


ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামো পুনরুদ্ধারের সর্বশেষ প্রচেষ্টা, যা ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়ার পর অস্থায়ীভাবে চালু রাখা হয়েছিল। 


অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) জানিয়েছে, ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির ৯৯ শতাংশের উৎস এবং তাদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। 


নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত প্রাথমিকভাবে ১২.৫ শতাংশের তালিকায় থাকলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার পর জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে আইন পাস করায় ১০ শতাংশের ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে। 


বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক আপাতত স্বস্তির হলেও তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার।


সম্পর্কিত খবর

;