৫ দফা দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা
স্টাফ রিপোর্টার: ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনের প্রতিবাদে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন গ্রাহকরা। ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ৫ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক প্রাঙ্গণ ও আশপাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আন্দোলনকারী গ্রাহকদের ঘোষিত ৫ দফা দাবির প্রথমটি হলো—ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অবিলম্বে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের অপসারণ। দ্বিতীয়ত, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনরায় ব্যাংকের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য যোগ্য নতুন গভর্নর নিয়োগ অথবা বর্তমান গভর্নরের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, পূর্বে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইসলামী ব্যাংকের সামনে বা আশপাশে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। এবং পঞ্চমত, এসব দাবি অনতিবিলম্বে পূরণ না হলে তীব্র ও লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, গত দুই বছরে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে ওমর ফারুক খান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে তাকে সরিয়ে দেওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব আনার সিদ্ধান্তকে তারা ব্যাংকের স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। তাদের মতে, বর্তমান আন্দোলন মূলত কোনো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক নয়; বরং ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার দাবির বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর আন্দোলনকারীদের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, পুরোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী আবারও ব্যাংকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে অভিযোগ করেছে যে, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে একটি রাজনৈতিক পক্ষ সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনো ব্যাংক কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে পরিচালিত হতে পারে না এবং রাস্তার আন্দোলনের মাধ্যমে ব্যাংক-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থনে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছিল এস আলম গ্রুপ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়ন্ত্রণ হারায় গ্রুপটি। ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা নেমেছে ১৩৭ কোটি টাকায়। তখন খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে। ব্যাংকটির ৯৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি।
আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছেন গ্রাহকরা। গত কয়েক বছরে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট, বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণ এবং অর্থনৈতিক অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ব্যাংকের পরিচালনায় এমন কোনো পরিবর্তন তারা চান না, যা ভবিষ্যতে আবারও ব্যাংকের আর্থিক অবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ডেস্ক রিপোর্ট: বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আবাসিক গ্রাহকদের শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট এবং শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ব ...
স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে দেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর মোট চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে কোরবানিযোগ্য প ...
ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা (শিপব্রেকিং) শিল্প। ভাঙার জন্য আমদানি করা ‘মেমেই’ নামের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যা ...
ডেস্ক রিপোর্ট: টানা পাঁচ বছর ধরে প্রবাসী রেমিট্যান্স আয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর ব্র্যাক ব্যাংক এখন ২০২৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ...
সব মন্তব্য
No Comments