লক্ষ্য বন্দর আব্বাসের কাছে নৌ-স্থাপনা

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা

প্রকাশ : 26 May 2026
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধবিরতি চলাকালীনই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, সেন্টকম, জানিয়েছে স্থানীয় সময় সোমবার, ২৫ মে বন্দর আব্বাসের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন বসাতে থাকা নৌযান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলে উল্লেখ করেছে পেন্টাগন। বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 


দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, হামলার স্থান হরমুজ প্রণালির কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছাকাছি। শহরটিতে ইরানের একটি বড় নৌঘাঁটি রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে বন্দর এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। 


হামলার সময়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই সম্প্রতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ‘কিছুটা অগ্রগতি’র কথা জানালেও বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের কোনো চুক্তি ‘আসন্ন নয়’। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালাল। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ‘চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আমরা সংযম দেখিয়েছি। কিন্তু মার্কিন সেনাদের ওপর হুমকি তৈরি হলে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হই।’ 


এই হামলার বিষয়ে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির মাঝে নতুন করে হামলা দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলল। গত ৭ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যত যুদ্ধবিরতি চলছিল। এরপর ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটলেও কোনো পক্ষ সরাসরি বড় হামলায় যায়নি। 


আল জাজিরা, আল আরাবিয়া ও টাইমস নাউসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হামলার খবর ব্রেকিং হিসেবে প্রচার হয়েছে। আল আরাবিয়া জানিয়েছে, হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির পাশাপাশি মাইন বসাতে যাওয়া কয়েকটি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী টহল বাড়িয়েছে। 


বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম আরটিভিও এই হামলা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের ছবি ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখানো হয়। উল্লেখ করা হয়, হজ ও ঈদুল আজহার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে একে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলছেন। আবার কেউ বলছেন, মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তার জন্য আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে যেকোনো সংঘাত তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী দিনগুলোতে তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

সম্পর্কিত খবর

;