ঋণখেলাপীদের পুরস্কৃত করছে বিএনপি সরকারও

প্রকাশ : 06 Sep 2026
ঋণখেলাপীদের পুরস্কৃত করছে বিএনপি সরকারও

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ (মার্কসবাদী) বলেছে, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপি সরকারও বড় ঋণখেলাপীদের শাস্তি না দিয়ে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পুরস্কৃত করছে।


সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা আজ শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।


বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক বড় ঋণখেলাপীদের ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ আবারও বৃদ্ধি করেছে। এতে হাজার কোটি টাকার ঊর্ধ্বে খেলাপীরা গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতপশিল করতে পারবে।


কমরেড মাসুদ রানা বলেন, ‘আওয়ামীলীগ সরকারের ১৫ বছরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল খেলাপী ঋণ ও অর্থপাচার। নির্দিষ্ট কিছু শিল্পগ্রুপ বা ব্যক্তি রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যাংক খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার সেসকল ঋণ খেলাপীদের বারবার নানারকম অন্যায্য সুবিধা দিয়েছিলো।’


তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য খেলাপী ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেয়। এরপর কখনো সুবিধার আওতা, কখনো ডাউন পেমেন্ট, কখনো আবেদনের সময়, আবার কখনো ঋণ পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনের পর থেকে বিএনপি সরকারও একই রকম সুবিধা দিয়ে আসছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালের জুন শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকের বিতরণ করা প্রায় প্রতি তিন টাকার এক টাকা খেলাপি। বাংলাদেশ এখন খেলাপি ঋণের হারের দিক থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ দেশের একটি। ঋণ খেলাপীর শীর্ষ কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো, বসুন্ধরা, এস আলম সহ তথাকথিত বড় গ্রুপগুলো।


কমরেড মাসুদ রানা বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যতটা কথায় সরব, বাস্তবে আর্থিক লুটপাট ও দূর্নীতির মাধ্যমে যারা ফ্যাসিবাদের ভিত্তি স্থাপন করল তাদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বেলায় এ দলগুলো ততটাই নীরব।’


তিনি বলেন, সরকারগুলো একদিকে বৃহৎ লুটপাটকারীদের নানারকম ছাড় দিচ্ছে, অপরদিকে কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।


বাসদ (মার্কসবাদী) অবিলম্বে ঋণখেলাপীদের সহায়তা দেয়া বন্ধ করে তাদের বিচারের আওতায় এনে সম্পদ ক্রোকসহ অন্যান্য শাস্তির মাধ্যমে আর্থিক ক্ষেত্রে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়।

সম্পর্কিত খবর

;