শিল্পকলায় মোহন রায়হানকে সংবর্ধনা বাতিলের দাবি কবি আবু জুবায়েরের

প্রকাশ : 29 Jul 2026
শিল্পকলায় মোহন রায়হানকে সংবর্ধনা বাতিলের দাবি কবি আবু জুবায়েরের

ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাইয়ের চেতনা, জাতীয়তাবাদী মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা রক্ষার দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন কবি আবু জুবায়ের।


মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আমি গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশের বর্তমান সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিসরে এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সামনে আসছে, যা ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মী, জুলাইয়ের আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষ এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী জনগণের মধ্যে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।"


বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জনপরিসরে অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে যে, কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য, লেখা বা সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের কেউ কেউ জুলাই আন্দোলন এবং তার চেতনার বিরোধী অবস্থানে ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


তিনি বলেন, "মোহন রায়হানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগ জনপরিসরে আলোচিত হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটাক্ষপূর্ণ রচনা করেছেন।" এছাড়া শ্যামল জাকারিয়া, রেজাউদ্দিন স্টালিনসহ কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাঁকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রেখেছেন বলেও জনপরিসরে অভিযোগ রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।


আগামী ১ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মোহন রায়হানকে সম্বর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগকে "জুলাইয়ের চেতনা, জনগণের প্রত্যাশা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক" বলে মনে করেন কবি আবু জুবায়ের।


বিবৃতিতে তিনি ৬ দফা দাবি জানান:


১. ১ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমিতে মোহন রায়হানকে দেওয়ার পরিকল্পিত সম্বর্ধনা বাতিল করা,

২. মোহন রায়হানকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত,

৩. শ্যামল জাকারিয়া, রেজাউদ্দিন স্টালিনসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের তদন্ত,

৪. সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, পুরস্কার ও স্বীকৃতি প্রদানের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা,

৫. কবিতা পরিষদসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অর্থায়ন ও সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয় তদন্ত,

৬. সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত রাখা।


তিনি বলেন, "এই বক্তব্য কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে নয়; বরং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আদর্শিক অবস্থান রক্ষার স্বার্থে। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নিতে হবে, আর মিথ্যা হলে স্বচ্ছভাবে খণ্ডন করতে হবে।


সম্পর্কিত খবর

;