বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রয়াস-বুয়েটের সমঝোতা

প্রকাশ : 06 Jul 2026
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রয়াস-বুয়েটের সমঝোতা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং এ খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (Memorandum of Understanding-MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।


সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে বুয়েটের ইসিই ভবনের ৬৩৪ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সহায়ক প্রযুক্তিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা’ শীর্ষক এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।


অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বুয়েট ইইই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শরীফ মোহাম্মদ মমিনুজ্জামান। পরে প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের কার্যক্রমের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সমঝোতা স্মারকের মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন বুয়েট ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আরিফুল হক।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বুয়েটের ইইই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক ও প্রিন্সিপাল কর্নেল মো. আলতাফ আলী, পিএসসি। বক্তারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এই সহযোগিতাকে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।


সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (ASD) স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ও নির্ণয় পদ্ধতি উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা পরিকল্পনা (Individual Education Plan-IEP) প্রণয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্যের ডিজিটাইজেশন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মানোন্নয়ন।


এছাড়া উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সেমিনার, কর্মশালা এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও এ খাতের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা হবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রয়াস ইনস্টিটিউট গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত, মাঠপর্যায়ের সহায়তা এবং ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। অন্যদিকে বুয়েটের ইইই বিভাগ গবেষণাগার সুবিধা, প্রকৌশলগত দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে। যৌথভাবে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের মালিকানা উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে।


সহযোগিতার প্রাথমিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় IEP প্রণয়ন এবং তাদের অগ্রগতির তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি, অটিজম প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের জন্য বহুমাত্রিক (Multi-modal) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্ক্রিনিং টুলের নকশা ও পরীক্ষণ, এবং ফিজিক্যাল ও অকুপেশনাল থেরাপির জন্য স্বল্প ব্যয়ে সেন্সরভিত্তিক সহায়ক ডিভাইস, স্মার্ট থেরাপি সরঞ্জাম ও কাস্টম-নির্মিত কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ।


তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে এর মেয়াদ পরবর্তীতে নবায়ন করা যাবে।


উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, এ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

;