তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশ : 16 May 2026
তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তাইওয়ানের স্বাধীনতা ঘোষণার ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠক শেষে দেশে ফেরার পথে শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি চাই না কেউ স্বাধীন হয়ে যাক। আর, আপনি জানেন, আমাদের ৯,৫০০ মাইল পাড়ি দিয়ে যুদ্ধ করতে হবে। আমি সেটা চাই না”। ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি চাই তাইওয়ান শান্ত হোক। আমি চাই চীন শান্ত হোক। আমরা যুদ্ধ চাই না। যদি পরিস্থিতি এখন যেমন আছে তেমনই থাকে, আমার মনে হয় চীন সেটাতেই ঠিক থাকবে”। তিনি স্পষ্ট করেন, তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র শুধু বেইজিংকেই স্বীকৃতি দেয় এবং তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না, তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করা হয়।


১৪-১৫ মে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে চীনা প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান ইস্যু “চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু” এবং ভুলভাবে সামাল দিলে দুই দেশ “সংঘর্ষে” জড়িয়ে পড়তে পারে। শি আরও বলেন, “তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি আগুন ও পানির মতো, একসঙ্গে থাকতে পারে না”। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাইওয়ান নিয়ে “অনেক কথা” হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “তিনি স্বাধীনতার লড়াই দেখতে চান না, কারণ সেটা খুব বড় সংঘাত ডেকে আনবে”। তবে ট্রাম্প যোগ করেন, “আমি কোনো মন্তব্য করিনি, আমি শুনেছি” এবং “তাইওয়ান নিয়ে আমি কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি”।


দুই দিনের সফর শেষে ট্রাম্প “ফ্যান্টাস্টিক” বাণিজ্য চুক্তির কথা বললেও বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। তিনি শি জিনপিংকে আগামী সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে মনে করেন, দ্বীপটি ইতোমধ্যেই স্বাধীন, তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন নেই। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার বলেছেন, তাইপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়, কারণ অঞ্চলে “ঝুঁকি” বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন তাইওয়ানকে নিজের অংশ মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে, যদিও “শান্তিপূর্ণ পুনর্মিলন”কেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে। 

সম্পর্কিত খবর

;