বিজিবি-গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

লালমনিরহাটের চার সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা

প্রকাশ : 05 Jun 2026
লালমনিরহাটের চার সীমান্তে ৩৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা

রংপুর অফিস:  লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সম্মিলিত বাধায় তা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখা ও ভারতীয় অংশে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।


বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত লালমনিরহাটের পয়ষট্টিবাড়ি, বড়খাতা, দুর্গাপুর ও দীঘলটারি সীমান্ত দিয়ে এই পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। পাটগ্রাম সীমান্তের আউলিয়াহাট এলাকা দিয়ে ১০ জন, বড়খাতা ও পয়ষট্টিবাড়ি বিওপি এলাকায় নারী-পুরুষসহ ২১ জন এবং অন্যান্য পয়েন্টে আরও কয়েকজনের উপস্থিতি শনাক্ত করে বিজিবি। টহল জোরদার ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে সবাইকে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে রাখা হয়।


বিজিবি জানায়, ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা ৬৫ বাড়ি বিওপির আওতাধীন ৮৪৬/১ এস ও ২ এস সীমান্ত পিলারের মাঝ দিয়ে ১০ জনকে ঠেলে দেয়। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বিজিবি তাদের প্রবেশ ঠেকায়। এলাকাবাসীও লাঠি হাতে সীমান্তে অবস্থান নিয়ে অনুপ্রবেশে বাধা দেয়। কাঁটাতারের গেট খুলে মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিজিবির কঠোর অবস্থানে বিএসএফ সফল হয়নি।


লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। পুশইন রোধে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর আগে ১৭ জুন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারি সীমান্তে পতাকা বৈঠকে বিজিবির চ্যালেঞ্জের মুখে বিএসএফ পুশইন করা একজনকে ফেরত নিতে বাধ্য হয়। বিএসএফ ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।


শুধু লালমনিরহাট নয়, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বিএসএফ। শুক্রবার ভোরে পঞ্চগড় সদরের বড়বাড়ি সীমান্তের ৭৫৮/৫ এস পিলার এলাকা দিয়ে নারী-পুরুষসহ ১০ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। নীলফামারী ৫৬ বিজিবির বাধায় তারা ভারতীয় অংশে ২০ গজের মধ্যে অবস্থান নেয়। এছাড়া নওগাঁ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ি সীমান্তেও সম্প্রতি পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি হিসেবে ৪ থেকে ১৫ মের মধ্যে অন্তত তিন শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে।


সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার ও অধিনায়ক পর্যায়ে নিয়মিত পতাকা বৈঠক করছে। বুধবার আদিতমারীর চওড়াটারি, হাতীবান্ধার ভেলাগুড়ির বনচৌকি ও পাটগ্রামের ধবলগুড়িসহ বিভিন্ন সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার পর দুপুরে ক্যাম্প কমান্ডার ও বিকেলে অধিনায়ক পর্যায়ে বৈঠক হয়। বিজিবি জানিয়েছে, পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা বহাল রয়েছে এবং কূটনৈতিকভাবেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গভীর রাতে বিএসএফ কাঁটাতারের গেট খুলে নারী-শিশুসহ মানুষজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজিবির পাশাপাশি গ্রামবাসীও রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।


সম্পর্কিত খবর

;