উজিরপুর ভূমি অফিসে ঘুষ দাবির অভিযোগ, কক্ষে আটকে ব্যবসায়ীকে মারধর

প্রকাশ : 17 Oct 2026
উজিরপুর ভূমি অফিসে ঘুষ দাবির অভিযোগ, কক্ষে আটকে ব্যবসায়ীকে মারধর

মহাসিন মিঞা লিটন: বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারির কাজ করাতে গিয়ে ঘুষ দাবি ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন কম্পিউটার ব্যবসায়ী মো. মিরাজ হোসেন। তার অভিযোগ, কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরও আরও টাকা দাবি করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে তাকে একটি কক্ষে আটকে মারধর করা হয়। এ সময় তার মুঠোফোনে থাকা কথোপকথন ও ভিডিও মুছে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।


এ ঘটনায় ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানম, অস্থায়ী গাড়িচালক মো. রাসেল মৃধাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মিরাজ। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।


মিরাজের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এক আত্মীয়ের নামজারির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর কাজের অগ্রগতি জানতে গিয়ে তাকে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়। একপর্যায়ে নামজারির কাজ করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে আগের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদলি হয়ে নতুন কর্মকর্তা যোগ দেওয়ার পর তিনি আবার যোগাযোগ করেন। তখনো অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।


মিরাজ বলেন, নামজারির কাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তার কাছ থেকে টাকা নেন। পরে অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা আরও টাকা দাবি করলে তিনি আগেই টাকা দেওয়ার কথা জানান। এ সময় তার মুঠোফোনে থাকা লেনদেনের প্রমাণ দেখতে চাওয়া হয়। প্রমাণ দেখানোর পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করেন তিনি।


মিরাজের অভিযোগ, আজ সকালে রাসেল মৃধাসহ কয়েকজন তাকে একটি কক্ষে আটকে মারধর করেন। পরে তার মুঠোফোনে থাকা কথোপকথন ও ভিডিও মুছে ফেলা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের পক্ষে ভিডিও ফুটেজ ও ছবি জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


অভিযোগের বিষয়ে অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা বলেন, আমাকে সেখানে ফোন করে নেওয়া হয়েছিল। তবে টাকা দাবি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা খানুম বলেন, আজকে অভিযোগ পেয়েছি। তিনি জানান, অভিযোগকারী মিরাজ হোসেনের একটি ভিডিও ক্লিপে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করার তথ্য রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি তিন মাস আগের। অভিযোগটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর

;