বর্তমান জাতীয় সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপান্তরিত হবে: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ

প্রকাশ : 09 May 2026
বর্তমান জাতীয় সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপান্তরিত হবে: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ


স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমান জাতীয় সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপান্তরের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।


শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা: এগোনোর পথ’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত সংলাপে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংস্কার বাস্তবায়নে আমরা আবার রাজপথে যেতে চাই না। কোনো অস্থিতিশীলতা আমাদের কাম্য নয়। রাস্তায় নামা আমাদের শেষ উপায়। তবে সরকার যদি বিরোধী দলের সহযোগিতাকে উপেক্ষা করে, তখন বাধ্য হয়েই রাজপথে যেতে হবে।’


তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকারি দল সংস্কার নিয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। জুলাই সনদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্যে একটি ভুল বিভাজন তৈরি করা হয়েছে।’


‘এখন মূল বিতর্ক সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে। ঐকমত্য কমিশন থেকেই এ বিতর্কের শুরু। নির্বাচনের আগে আমরা ভেবেছিলাম জুলাই সনদের মাধ্যমে একটি চুক্তি হয়েছে এবং নির্বাচন ও গণভোটের দিকে যাওয়া হচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।


সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের স্বার্থে সংস্কারের বিষয়ে আপস করেছিল। তাই সে সময় তারা জুলাই সনদ ও সংস্কার কমিশনের সবকিছু মেনে নিয়েছিল। কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচন, সংস্কার নয়।’


তিনি বলেন, ‘এখানে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, কী সংস্কার দরকার। দ্বিতীয়ত, কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে। সরকার সাধারণ সংশোধনের মাধ্যমে সংস্কার করতে চাইছে। কিন্তু আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ চাই। মৌলিক পরিবর্তনের জন্য এটি জরুরি।’


নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা কয়েকটি মৌলিক সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছি। যেমন: উচ্চকক্ষ গঠন, যা সংবিধান সংশোধনে ভারসাম্য আনবে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়োগ, দুদক ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করা।’


কূটনীতিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংস্কার বাস্তবায়নে আমরা অস্থিতিশীলতা চাই না। এখনো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলে মনে করি। বল এখন সরকারের কোর্টে। তাদের ঠিক করতে হবে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে। কারণ সংস্কার কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়। জাতীয় পুনর্গঠন, গণতন্ত্র নিশ্চিত করা ও প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতেই সংস্কার দরকার।’


সংলাপের শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ অভিযোগ করেন, ‘সংস্কার নিয়ে সরকার ও বিএনপি ছলচাতুরি করছে।’ আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও অহিংসভাবে কর্মসূচি পালন করব। রাজপথে ইতিমধ্যে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে তা কতটা কঠোর হবে সেটি নির্ভর করবে সরকার আমাদের দাবিতে কতটা সাড়া দেয় তার ওপর।’


অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। পরে লিখিত বক্তব্য পড়েন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। উন্মুক্ত আলোচনায় আইআরআই, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্ক দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা জানান, মূলত এনসিপির বক্তব্য শুনতেই তারা এসেছেন।


এছাড়া সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য মো. আবদুল আলীম এবং নাগরিক কোয়ালিশনের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাসরুর বক্তব্য দেন। ধন্যবাদ জানান এনসিপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ। মঞ্চে আরও ছিলেন সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন।

সম্পর্কিত খবর

;