ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ : 21 May 2026
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতে অন্তত ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও সহায়ক উড়োজাহাজ ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। চলমান যুদ্ধ ও তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের কারণে ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সিআরএস জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযানে এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের তালিকায় আছে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার রিফুয়েলিং বিমান, একটি ই-৩ সেন্ট্রি এডব্লিউএসিএস, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন। প্রতিবেদনটি পেন্টাগন ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতি এবং সংবাদমাধ্যমের তথ্য পর্যালোচনা করে তৈরি করা হয়েছে।


এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত ১২ মে হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির শুনানিতে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক প্রধান জুলস হার্স্ট থ্রি বলেন, “সরঞ্জামের মেরামত বা প্রতিস্থাপনের খরচের পরিমার্জিত হিসাব পাওয়ায় ব্যয়ের বড় একটি অংশ বেড়েছে।” তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এখনও যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রকাশ করেনি।


সিআরএসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে। ওই হামলায় ইরানের রাষ্ট্রীয় নেতা আলী খামেনেইসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও পরিস্থিতি এখনও ‘তরল’ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি এক্স-এ সিআরএস প্রতিবেদনটি শেয়ার করে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই মাসের যুদ্ধে শত শত কোটি ডলারের কয়েক ডজন বিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীই প্রথম একটি এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত করেছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোকে, যুদ্ধে প্রত্যাবর্তন আরও অনেক চমক নিয়ে আসবে।”


বিশ্লেষকরা বলছেন, আকাশপথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা নিয়ে ওয়াশিংটন যুদ্ধে নেমেছিল, ক্ষয়ক্ষতি ও খরচের হিসাব তার চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসেও আলোচনা শুরু হয়েছে। 


সম্পর্কিত খবর

;