আইইউটিতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উৎসব ‘অটোমেক ২.০’ এর উদ্বোধন

প্রকাশ : 31 Jul 2026
আইইউটিতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উৎসব ‘অটোমেক ২.০’ এর উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-তে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি উৎসব ‘অটোমেক ২.০’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় কমিটি ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।


বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী আইইউটির ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুজ্জামান তানভিনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আইইউটির শিক্ষার্থী মীর মোজাম্মেল হোসেন নাইম, জোবায়ের আলম সাকিব এবং মুবতাসিম রহমান মাহিনের স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিমুল বিশ্বাস নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সংগঠক উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার সমন্বয়কের দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই পরিবহন খাতের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও জানান তিনি।


তিনি বলেন, ‘অটোমেক ২.০’ একটি সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে বাস্তবমুখী প্রযুক্তি চর্চায় উৎসাহিত করবে। তিনি সফল আয়োজনের জন্য আইইউটি কর্তৃপক্ষ, মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং আইইউটি অটোমোবাইল সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানান।


শিমুল বিশ্বাস বলেন, আইইউটি ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্মার্ট উৎপাদন ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ‘অটোমেক ২.০’ শুধু একটি প্রযুক্তি উৎসব নয়, বরং এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে নতুন ধারণার বিকাশ ঘটে এবং অর্জিত জ্ঞান বাস্তবসম্মত সমাধানে রূপ নেয়।


তিনি আরও বলেন, উৎসবে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রকল্প প্রদর্শনী, প্রকৌশল নকশা, রোবোটিক্স, ইঞ্জিন সংযোজন, সিমুলেশন এবং অটোমোবাইলভিত্তিক নানা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বাস্তব দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে। আজকের ছোট ছোট উদ্ভাবনী ধারণাই ভবিষ্যতে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যুগান্তকারী গবেষণা এবং নতুন কর্মসংস্থানের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।


দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তরুণ প্রজন্মকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও দৃঢ় সংকল্প বাংলাদেশকে জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করতে পারে। এ জন্য মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখার পথ কখনো থামিয়ে দেওয়া যাবে না। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। একজন প্রকৌশলীর প্রকৃত সাফল্য শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞানে নয়, বরং সেই জ্ঞান মানুষের জীবনকে কতটা ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে পারে তার মধ্যেই নিহিত। সমাপনী বক্তব্যে তিনি গণচীনের নেতা মাও সে তুং-এর উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই এবং আশা প্রকাশ করেন আইইউটির শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেবে।


সম্পর্কিত খবর

;