রেলওয়েতে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশ : 17 May 2026
রেলওয়েতে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বদলি করার ক্ষমতা এখন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের হাতে। রেলওয়ে  মহাপরিচালকের ((ডিজি)) ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মন্ত্রণালয় ক্ষমতা নেয়ার পর ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ফিল্ড কানুনগোসহ এ পর্যন্ত ১৮ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। আর এই বদলি নিয়ে মোটা অঙ্কের বানিজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

বদলি প্রাপ্ত কানুনগো সূত্রে জানা গেছে, উৎকোচের পরিমাণ বেশি দিলে পছন্দের জায়গায়  বদলি হওয়া যায় এমন গুঞ্জন রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এর আগে কোন সচিব বদলি করার দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। বদলি তালিকা তৈরি করেন মন্ত্রণালয়ের ভূমি শাখার সহকারী সচিব মোঃ মাসুদ আলম। 

এদিকে কানুনগো পদে পদোন্নতির তথ্য গোপন করে সংস্থাপন শাখা ই-৩ প্রতিবেদন দেয়ায় গত ১২ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মাসুদ আলমের স্বাক্ষর করা জবাব চাওয়া ফাইলও সচিবের টেবিলে বন্দী হয়ে আছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ। 

তাদের বদলির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে রহস্য। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়,  ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের পছন্দের জায়গায় যেতে যোগাযোগ করা হয় মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সাথে। যাদের সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ নাই তারা রাজশাহী সদর প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নাদিম সারোয়ারের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। রাজশাহী ভূমি অফিসের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলামের  বদলি ঠেকাতে তদবির  করা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। রফিকুল রাজশাহী সিইও দপ্তরে ২০১৭  সালের ৩০ এপ্রিল থেকে একই দপ্তরে বহাল তবিয়তে। 

সূত্র জানায়, ঢাকা কমলাপুর ভূমি অফিসের রফিকুল ইসলাম ১২ বছর ধরে আছেন। তার বদলি ঠেকাতে তিনি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ উঠেছে, রফিকুলকে বদলি না করে উল্টো ৮ মাস আগে পদোন্নতি পাওয়া অফিস সহকারি আনোয়ার হোসেনকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার দপ্তর থেকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। 

আনোয়ার অভিযোগ করেন, বদলি তালিকায় তার নাম ছিল না। রফিকুল তদবির করায় তার বদলি স্থগিত করে তাকে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম বদলি করা হয়। 

এদিকে অফিস সহকারী অলিভের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অদৃশ্য ক্ষমতায় মন্ত্রণালয় তাকে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) পাকশি থেকে বিভাগীয়  ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার দপ্তর পাকশিতে বদলি করা হয়। 

ফিল্ড কানুনগো শরিফুলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পার্বতীপুর কাঁচারিতে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।  তাকে পাকশি থেকে চট্টগ্রাম বদলি করা হয় ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর। তবে রেল কর্তৃপক্ষের আদেশকে অমান্য কয়েক মাস কর্মস্থল থেকে বিরত ছিল। অবশেষে চলতি বছরের ২১ মার্চ চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ- সম্পত্তি কর্মকর্তা দপ্তরে যোগদান করেন। রেল সচিবের কাছে শরিফুলের করা বদলি আবেদন আমলে নিয়ে তাকে আবারো পাকশিতে বদলি করার পায়তারা করছে মন্ত্রণালয়। সূত্র বলছে শরিফুলের বদলির আবেদনটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। 

অপরদিকে পাকশী জলাশয় টেন্ডার নিয়ে ভূমি অফিসের উচ্চমান সহকারী তাপসী সুলতানার বিরুদ্ধে কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সর্বোচ্চ দরদাতার তথ্য গোপন করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে টেন্ডার পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফিল্ড  কানুনগো এবং অফিস সহকারীদের বদলি করা হলেও অদৃশ্যভাবে ৪ ডিভিশনে বিভিন্ন কাচারিতে আমিনরা বদলি আদেশের বাইরেই রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এপর্যন্ত ৪ ডিভিশনের কোন আমিনকে বদলি করা হয়নি। তারা একই বিভাগে ১০ থেকে ১২ বছর কর্মরত রয়েছে। #

সম্পর্কিত খবর

;