ট্রাম্পের হুমকির পরই ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ৮ সেনা: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

প্রকাশ : 09 Jul 2026
ট্রাম্পের হুমকির পরই ইরানে মার্কিন হামলা, নিহত ৮ সেনা: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আজ রাতেই কঠিন হামলা হবে’ এমন হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর ৮ সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরনার বরাতে রয়টার্স জানায়, বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর ৮ সদস্য নিহত হন। হামলার শিকার এলাকাগুলো দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত বন্দর ও নৌঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। 


মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে তারা এ পাল্টা হামলা চালিয়েছে। CENTCOM-এর বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি, সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, অ্যান্টিশিপ ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন লঞ্চ সাইট লক্ষ্য করে চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় ‘ভারী মূল্য’ দিতে বাধ্য করতে এ হামলা চালানো হয়েছে। 


ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও ইরনা জানায়, নিহতদের মধ্যে সারওয়ান আলী মইনী, সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট আলী মাহদীজাদেহ, হামেদ দোরাইসহ ৮ জন রয়েছেন। ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, “শত্রুদের বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দাঁড়াবে এবং নিহতদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে”। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। 


হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি ‘অনিশ্চিত’ এবং ‘আজ রাতেই’ নতুন হামলা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ জরুরি ছিল। 


আল জাজিরা জানায়, বুধবার সকালে হামলার পর সিরিক বন্দর, কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসের আশপাশে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কুয়েত ও বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয় এবং কুয়েতের সেনাবাহিনী ‘শত্রু’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলার কথা জানায়। 


গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি সই করেছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির লাইসেন্স বাতিল করে, যার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা। তবে ইরান একে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে এবং ‘পাল্টা জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। 


সম্পর্কিত খবর

;