ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিলসহ ৬ দফা দাবি জামায়াতের

প্রকাশ : 29 Jul 2026
ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিলসহ ৬ দফা দাবি জামায়াতের

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার ও এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির অংশ নেন।


বৈঠক শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে শামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি অতীতে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হবে। আমরা ইতোমধ্যেই এ নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তা বাতিলের দাবি করেছি। কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে।


তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশের বিরোধিতা করেছে জামায়াত। দেশের নাগরিক হিসেবে তাদেরও সাংবিধানিক রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করলে তা বৈষম্যমূলক হবে। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের বিধান বহাল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।


মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলে সেই দলের পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এছাড়া বর্তমান সরকারের আমলে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে নির্বাচনে অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। তাই তাদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।


তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হলে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের কোনো প্রার্থীর পক্ষে সভা-সমাবেশ বা প্রচারণায় অংশ নেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব, সরকারের মন্ত্রীদের আগাম তারিখ ঘোষণা থেকে বিরত থাকতে কমিশনকে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।


চট্টগ্রামের একটি নির্বাচনী বিষয়ে আদালতের আদেশের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও শপথের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক চাপ ছিল কি-না, তার ব্যাখ্যাও কমিশনের কাছে চাওয়া হয়েছে। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এখন জামায়াতের কেউ নন। তার সদস্য পদ থাকবে কি-না, তা নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারের এখতিয়ার।


সম্পর্কিত খবর

;