চুরি মামলার আসামি নিহতের গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২

প্রকাশ : 09 Jul 2026
চুরি মামলার আসামি নিহতের গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২

রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চুরি মামলায় গ্রেপ্তার এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়লে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে থানা চত্বরে এ সংঘর্ষে পুলিশের ৫ সদস্যসহ দুইপক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানান, দুই থেকে তিনশ নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে থানায় ঢুকে হামলা চালান। এ সময় থানায় ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয়। হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে কয়েকজন আহত হন।


সংঘর্ষে এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন ও মেহেদি হাসান আহত হয়েছেন। এছাড়া গ্রেপ্তার রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) ও মমতাজ বেগম (৪৭) সহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত নাছরিন, শারমিন, মমতাজ ও দুই পুলিশ সদস্য আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। গ্রেপ্তার এড়াতে আহত অনেকে গোপনে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।


পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় চুরি মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানা হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেই দেওয়ালে মাথা ঠুকে আহত হন এবং জ্ঞান হারান। রাত ১১টার দিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যুর গুজব ছড়ালে ক্ষুব্ধ শতাধিক নারী-পুরুষ থানায় হামলা চালান।


হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক সাকিবুল হাসান শান্ত জানিয়েছেন, রিয়াজ ফকির শেবাচিম হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। তার বড় ধরনের কোনো ইনজুরি নেই, তবে মাথায় আঘাত রয়েছে।


এদিকে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকির দাবি করেন, রিয়াজকে বিনা অপরাধে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে পুলিশ মারধর করেছে। মারধরে গুরুতর আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


ওসি মাসুদ খান বলেন, রিয়াজকে চুরি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি নিজেই হাজতখানায় মাথায় আঘাত করেন। তার আত্মীয়স্বজনসহ শতাধিক লোক পরিকল্পিতভাবে থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের মারধর করেছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


সম্পর্কিত খবর

;