বাড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিয়ম না মেনে আগাছানাশক বিষের যথেচ্ছ ব্যবহার

প্রকাশ : 16 Jul 2026
নিয়ম না মেনে আগাছানাশক বিষের যথেচ্ছ ব্যবহার

আবদুল্লাহ আল মামুন, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম): ধানক্ষেতে ঘাস দমনে প্যারাকোয়াট ছিটান রাজারহাট উপজেলার কৃষক আবদুল করিম (৪৮)। কিন্তু কাজের সময় তাঁর হাতে থাকে না গ্লাভস, মুখে থাকে না মাস্ক, চোখেও কোনো সুরক্ষা চশমা নেই। কয়েক বছর ধরে একইভাবে কাজ করতে করতে এখন তিনি শ্বাসকষ্ট, ত্বকে জ্বালাপোড়া ও চোখের সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সংসারের দায়ে আবারও তাঁকে মাঠে নামতে হচ্ছে।


আবদুল করিম একা নন। কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক কৃষকই ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া আগাছানাশক বিষ প্যারাকোয়াট ছিটাচ্ছেন। ফলে তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।


কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, আগাছানাশক বিষ ব্যবহার করার সময় নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ, বাতাসের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা, গ্লাভস, মাস্ক, বুট ও সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার এবং কাজ শেষে সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করা জরুরি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব নিয়ম মানা হয় না।


রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথি বলেন, "আগাছানাশক বিষ কৃষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তবে এটি ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার না করলে বিষ শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।"


তিনি আরও বলেন, "অনেক কৃষক খরচ বাঁচাতে বা অসচেতনতার কারণে মাস্ক, গ্লাভস কিংবা সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার করেন না। আবার অনেকে প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় বিষ প্রয়োগ করেন। এতে যেমন কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, তেমনি পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।"


কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন বলেন, "আগাছানাশক বিষের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, ত্বক ও চোখের ক্ষতি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।"


তিনি বলেন, "আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব বিষ সহজে পাওয়া যায়। ফলে পারিবারিক কলহ বা মানসিক চাপে অনেকেই আবেগের বশে এটি পান করেন। হাসপাতালে আনার পরও অনেক সময় রোগীকে বাঁচানো যায় না। তাই সচেতনতার পাশাপাশি বিষাক্ত কৃষি রাসায়নিকের নিরাপদ সংরক্ষণ এবং বিক্রিতে কার্যকর নজরদারি জরুরি।"


তাঁদের মতে, নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে বিষের অপব্যবহারজনিত অকাল মৃত্যুর ঘটনাও অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।


সম্পর্কিত খবর

;