সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা, মিনায় চলছে কোরবানি ও পাথর নিক্ষেপ

প্রকাশ : 27 May 2026
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা, মিনায় চলছে কোরবানি ও পাথর নিক্ষেপ

রফিকুল ইসলাম সুজন: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব মসজিদে সকাল থেকেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে পশু কোরবানি করছেন। একই সঙ্গে হজ পালনকারী প্রায় ১৬ লাখ হাজি মিনায় ঈদের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন।


গতকাল মঙ্গলবার, ৯ জিলহজ হজের মূল রুকন ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হয়েছে। ফজরের পর থেকেই মিনা থেকে লাখ লাখ হাজি ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। সাদা ইহরামে ঢাকা পড়ে গোটা আরাফাত প্রান্তর। সৌদি সময় দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদে নববির ইমাম শাইখ ড. আলী বিন আবদুর রহমান হুযাইফী। এ বছর খুতবা বাংলাসহ ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নিপীড়িত মুসলমানদের জন্য দোয়া এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। খুতবার পর হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন।


সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান শেষে হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। এ সময় জামারাতে নিক্ষেপের জন্য ৭০টি করে কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা। আজ ফজরের পর থেকে হাজিরা মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে বড় জামারায় ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন।


পাথর নিক্ষেপ শেষে হাজিরা পশু কোরবানি করছেন। কোরবানির পর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম থেকে হালাল হচ্ছেন। একে তাহাল্লুলে আউয়াল বলা হয়। এরপর হাজিরা মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফে তাওয়াফে ইফাদা ও সাফা-মারওয়া সাঈ আদায় করবেন। আগামী ১১ ও ১২ জিলহজ, ২৮ ও ২৯ মে হাজিরা মিনায় অবস্থান করে তিনটি জামারায় প্রতিদিন ২১টি করে কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগের সুযোগ রয়েছে। সবশেষে বিদায়ী তাওয়াফের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।


এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা আগেভাগেই কোরবানির পশু কিনে রেখেছিলেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রান্নাবান্নাসহ নানা আয়োজন চলছে। দুবাই, আবুধাবি ও রিয়াদের বড় শপিংমলগুলোতে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।


হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। তীব্র দাবদাহে হাজিদের সুরক্ষায় মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় পানির ফোয়ারা, ছায়াযুক্ত পথ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাজিদের পরিবহনে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস এবং মাশায়ের মেট্রো সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩২ হাজারের বেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োজিত আছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো হজ এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।


ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করছেন। হাজিদের সেবায় মক্কা ও মদিনায় বাংলাদেশ হজ মিশন, মেডিকেল টিম ও আইটি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট আগামী ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;