অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : 20 Oct 2026
অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিরনিধি:দেশবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ মিলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। সবাই সতর্ক থাকবেন।’


মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তার প্রথম রাজশাহী সফর। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি কথা বলি ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ যারা এই স্লোগানে এবং এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারাই এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। আপনারা দেখেছেন, দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।


তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশের বাইরে থেকে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে অর্থ সরবরাহ করছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। একদল জনগণকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, অন্যরা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছে। এখন দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্য আজ থেকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।


বেকার সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পরে রাজশাহী জেলায় বন্ধ থাকা কারখানার মালিক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ডেকে কথা বলেছি। গত সাত মাসে ছয়টি কলকারখানা চালু করা হয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান। আগামী জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর এই ১২ মাসের মধ্যে পুরো দেশে আরও ৪৬টির মতো বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে শিশু ও নারীদের জন্য পৃথক শয্যার পাশাপাশি কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সুবিধা নিশ্চিতেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।


জনসভার শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এই অর্থ তিনি কম্পিউটারে বোতাম টিপে সংশ্লিষ্ট চাষিদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষির হাতে চেক তুলে দেন। এই প্রণোদনার মোট পরিমাণ ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলেও জানা গেছে। 


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে জনসভায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। সমাবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।


প্রধানমন্ত্রীর সারাদিনের কর্মসূচি:


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সামরিক বিমানে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান তারেক রহমান। 


সকালের প্রথম ভাগে তিনি রংপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


রংপুরের কর্মসূচি শেষে সামরিক বিমানযোগে তিনি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে অবতরণের পর দুপুর দেড়টায় ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শনের কথা থাকলেও পরে তিনি রাজশাহী সার্কিট হাউসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন।


বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ তথা হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় যোগ দেন এবং আখচাষিদের প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। 


রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে বিকালে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সন্ধ্যায় নগরীর রহমতগঞ্জের ঐতিহাসিক জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাময়িক বিশ্রাম শেষে রাতে বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার কর্মসূচি রয়েছে। 


সম্পর্কিত খবর

;