নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান চায় জাতিসংঘ

প্রকাশ : 07 Sep 2026
নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর স্বাধীন নজরদারি প্রতিষ্ঠান চায় জাতিসংঘ

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর তদারকির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই আহ্বান জানান।


ফলকার তুর্ক বলেন, “In Bangladesh, we have been calling for a strengthened and independent national institution that has oversight of security forces”। তিনি বলেন, তার দপ্তর সরকারগুলোর সঙ্গে সামরিকায়িত নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ পদ্ধতি মোকাবিলায় কাজ চালিয়ে যাবে। 


তুর্ক আরও বলেন, “I know many of you are uncomfortable with what is done in the name of protecting national security. These outdated practices can be an albatross around the neck of government”। 


এই আহ্বান নতুন নয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (OHCHR) ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে ৪৪টি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড তদারকিতে স্বাধীন নজরদারি, গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসামরিক নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ ছিল।


জাতিসংঘের ওই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে বলা হয়, হাসিনা সরকারের পতনের আগের সপ্তাহগুলোতে ১৪০০ জন পর্যন্ত মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সম্ভাবনার অভিযোগ আনা হয়। 


তুর্ক ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ সফর করেন এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে আলোচনা করেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রতিবাদকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তার দপ্তর ন্যায়বিচার ও নিরাময়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


মানবাধিকার পরিষদের এবারের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তুর্ক জোর দেন, নিরাপত্তা খাতে সংস্কার ছাড়া টেকসই মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। সাক্ষী ও ভুক্তভোগী সুরক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর বাইরে স্বাধীন প্রোগ্রাম গঠন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও আগের সুপারিশে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।


সম্পর্কিত খবর

;